শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :
শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমাছ মিয়ার বিরুদ্ধে অসচ্ছল ব্যক্তিকে ভিজিডি ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বাহাড়া ইউনিয়নের ভাটগাঁও গ্রামের এক ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমাছ মিয়া ভিজিডি ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ভাটগাঁও গ্রামের শাহানা খাতুনের কাছ থেকে গত বছরের মার্চ মাসে নগদ ছয় হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও আরো কয়েকজনের কাছ থেকে এভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। টাকা দেওয়ার পরেও ভুক্তভোগীর নামে কোনো ভিজিডি ভাতার কার্ড দেওয়া হয়নি। ফলে তাঁরা ইউপি সদস্য আলমাছ মিয়ার কাছে টাকা ফেরত চান। ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চেয়ে বার বার ব্যর্থ হয়। যার ফলে বাধ্য হয়ে ইউপি সদস্য আলমাছ মিয়ার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (শাল্লা) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগী উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের ভাটগাঁও গ্রামের শাহানা খাতুন বলেন, ‘আমরা গরিব খেটে খাওয়া মানুষ। আমাকে ভিজিডি ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে আলমাছ মেম্বার নগদ ৬ হাজার টাকা নিয়েছে। এখন সে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো আমাদের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি আমাদেরকে ভিজিডি কার্ডের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে শাল্লা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও চান্দকোনা গ্রামের মোসাহিদ মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তারকে ৯নং ওয়ার্ডের ভিজিডি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আলমাছ মিয়া বলেন, আমরা গরীবের পক্ষে। গরীবের টাকা মেরে খাওয়া আমাদের কাজ নয়। যে মহিলা অভিযোগ করেছে তার নাম অনলাইনে কেন আসল না এটাতো আমি জানি না। আর শাল্লা ইউনিয়নের লোককে বাহাড়া ইউনিয়নে ভিজিডি দেয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা আমি বলতে পারব না। অনলাইনে কিভাবে আসল এটা যারা কাজ করেছে তারা জানবে। এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিত চৌধুরী নান্টুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য দেয়া সম্ভন হয়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, আমি জেলায় মিটিংয়ে ছিলাম। অভিযোগটি দেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।