সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এবার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন শাল্লা উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, আওয়াল নূর ও সাইদুর রহমান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সাইদুর গ্রুপের পায়েল মিয়া (২০) ও তাহেরা বেগম (৪৫) নিহত হন। সংঘর্ষের পর আওয়াল নূর গ্রুপের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে ধান, চাল, গবাদি পশুসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হচ্ছে।
অভিযোগের খবর পেয়ে শাল্লা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম, প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আওয়াল, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাবু গণেন্দ্র চন্দ্র সরকার, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমানসহ ২৫-৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এসময় নেতৃবৃন্দ নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তারা বলেন, এলাকায় যেন কোনো ধরনের লুটপাট বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বানও জানান তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গত মঙ্গলবারের বিরোধের জেরে বুধবার উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। গত বছরও একই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছিল।
লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে সাইদুর রহমান বলেন, “আমাদের পক্ষের কেউ কোনো লুটপাটে জড়িত নয়। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আওয়াল নূর গ্রুপ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের দুইজন নিহত হয়েছেন।”

এদিকে আওয়াল নূর গ্রুপের এক নারী সদস্য বলেন, “আমরা এখন জানের নিরাপত্তা চাই।”
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা টহল জোরদার করা হয়েছে।