
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বেপরোয়া মাদক কারবারিদের অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর সদস্যরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও নিজেদের সুরক্ষার জন্য বিজিবি সদস্যরা চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে বাধ্য হন।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের ট্রলির লাইন এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। কালাইরাগ বিওপির দায়িত্বরত ক্যাম্প কমান্ডার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, কালাইরাগ বিওপির নায়েক সুবেদার আলমগীরের নেতৃত্বে বিজিবির একটি টহল দল নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে রাত আড়াইটার দিকে বের হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সীমান্ত পিলার ১২৫৪-এর ৭এস-এর প্রায় ৯০০ গজ দূরে ট্রলির লাইন এলাকা দিয়ে মাদকের একটি চালান ঢুকতে পারে।
এই সংবাদের ভিত্তিতে টহল দলটি ভোর সাড়ে ৫টায় নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান নেয়। এসময় একটি মোটরসাইকেলে করে মাদক পাচারের চেষ্টা করা হলে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা তাৎক্ষণিকভাবে ১৬৭ বোতল মদ এবং একটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়।
তবে, এর কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন মাদক কারবারি দলবদ্ধ হয়ে ফিরে এসে টহলরত বিজিবি সদস্যদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে, যার ফলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংঘর্ষময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিজেদের আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরা বাধ্য হয়ে চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। ফাঁকা গুলির শব্দে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
কালাইরাগ বিওপির দায়িত্বরত ক্যাম্প কমান্ডার জানান, "মাদক আটক করতে গিয়ে বিজিবি সদস্যরা মাদক কারবারিদের হামলার শিকার হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা বাধ্য হয়ে ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছি। বর্তমানে পুরো পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"
ঘটনার পর উদ্ধার করা মদ ও মোটরসাইকেল বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।