
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মদন মোহন কলেজের ‘প্রভাষক’ পরিচয়ের আড়ালে বিদেশ পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছেন তপন চন্দ্র পাল নামে এক ভয়ংকর প্রতারক। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক যুবকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। বিশ্বাস অর্জনের জন্য ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি এবং নিজের সই করা ব্যাংকের অগ্রিম চেক দিলেও, শেষ রক্ষা হয়নি ভুক্তভোগীদের। গত চার দিন ধরে মোটা অঙ্কের টাকাসহ এই কথিত শিক্ষক সম্পূর্ণ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
চুক্তিপত্রে সিলেটের স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করলেও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুযায়ী, অভিযুক্ত তপন চন্দ্র পাল হবিগঞ্জ শহরের সুঘর গ্রামের সুধির চন্দ্র পালের ছেলে।ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তপন চন্দ্র পাল দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সিলেটের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘মদন মোহন কলেজ’-এর প্রভাষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। সমাজে একজন শিক্ষকের যে সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে— সেটাকেই পুঁজি করেন তিনি। সরল বিশ্বাসে নানা পেশার লোকজন তার পাতা ফাঁদে পা দেন। কাউকে কুয়েত, আবার কাউকে ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার চুক্তি করেন তপন।
প্রতারণার কৌশল হিসেবে তপন চন্দ্র পাল ভুক্তভোগীদের সাথে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি করতেন। এমনকি নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সই করা অগ্রিম চেকও ভুক্তভোগীদের হাতে তুলে দিতেন। এই ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ দেখে বিদেশযাত্রারা আশ্বস্ত হন এবং অনেকেই নিজের শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে ও চড়া সুদে ঋণ নিয়ে লাখ লাখ টাকা তুলে দেন এই প্রতারকের হাতে। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর থেকেই বিদেশ পাঠানোর বিষয়ে নানা টালবাহানা ও সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন তপন। সর্বশেষ গত চার দিন ধরে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এমনকি সিলেটে তার দেওয়া সাময়িক ঠিকানায় খোঁজ নিয়েও কোনো হদিস মেলেনি।
টাকা দিয়ে প্রতারিত হওয়া ভুক্তভোগীরা এখন চরম দিশেহারা। দালালের খপ্পরে পড়ে একদিকে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ, অন্যদিকে ঋণের টাকা পরিশোধের চাপ— দুই মিলে অনেকেই এখন নির্বাক। এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মদন মোহন কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও ভুক্তভোগীদের দাবি, তপন মূলত কলেজের পরিচয় ব্যবহার করে আসছিলেন।ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই জঘন্য প্রতারণার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছেন।