দোয়ারাবাজার উপজেলার চেলা নদীতে বালু লুটপাটের মহোৎসব

দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নে চেলা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র ইজারার আড়ালে এই লুটপাট চালাচ্ছে, যার শিকার হয়ে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক বসতঘর, শত শত একর ফসলি জমি এবং চলাচলের রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

জানা গেছে, চেলা নদী থেকে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসন প্রতিবছর মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় করলেও, ইজারাদার ও স্থানীয় প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট প্রশাসনের একটি মহলকে ম্যানেজ করে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে চলেছে। ইজারার শর্ত অনুযায়ী নদীর পাড় থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বালু তোলার কথা থাকলেও, তারা তা মানছে না।

সারপিনপাড়া, পূর্বচাইরগাঁও, সোনাপুর, রহিমের পাড়া, পূর্বসোনাপুর, নাছিমপুর—এই ছয়টি গ্রামের বাসিন্দারা নদীভাঙনের সবচেয়ে বেশি শিকার। দিনের আলোর পাশাপাশি রাতের অন্ধকারেও চলছে এই বালু লুটপাট। স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে রাস্তাঘাট, সরকারি জমি এবং পাকা-কাঁচা ঘরবাড়ি প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে। নদীর পাড় কেটে বালু তোলায় নদীর গতিপথ ইতোমধ্যে অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, গত কয়েক বছর ধরে ইজারার দোহাই দিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এই নদীর পাড়ের পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে। ইজারাদার ছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কতিপয় লোক এই অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত। কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো হামলা-মামলার শিকার হতে হয়েছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সামছুল হক নমু বলেন, একসময় চেলা নদী ছিল কর্মসংস্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কেন্দ্র। কিন্তু লেবাসধারী একটি চক্র সব নিয়ম উপেক্ষা করে লুটপাট চালাচ্ছে। তিনি জানান, ইজারাদারের প্রতি আপত্তি নেই, তবে তিনি যেন নিয়মের বাইরে গিয়ে বালু উত্তোলন করে এলাকার ক্ষতি না করেন। কিছুদিন আগে একটি চক্র ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করেছিল, যা স্থানীয়রা প্রতিরোধ করেন।

এদিকে, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর এক নেতাসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তিকে হাতে নিয়ে চেলা নদীতে রমরমা বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে এবং এর সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনও জড়িত।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, নিয়ম লঙ্ঘন করে সীমান্ত অতিক্রমকারী কয়েকটি নৌকা ইতোপূর্বে জব্দ করা হয়েছে এবং বিজিবিকে টহল জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।