
সিলেট অঞ্চলে দিন দিন প্রকট হতে থাকা পানি সংকট মোকাবিলায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে পুকুর, খাল ও জলাশয় সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার সিলেট জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, ডিপ টিউবওয়েল ও প্রোডাকশন টিউবওয়েলের মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। এই প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে সিলেট অঞ্চল এক ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, মানুষকে পর্যায়ক্রমে মাটির নিচের পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুকুর, দিঘি ও খালের মতো সারফেস ওয়াটারের দিকে ফিরে আসতে হবে। শুধুমাত্র জলাশয় রক্ষা করলেই চলবে না, বরং সেগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার তাগিদ দেন তিনি। বিশেষ করে এসব জলাশয়ের পাশে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধ করে সাধারণ মানুষের ব্যবহারোপযোগী করার প্রস্তাব দেন মন্ত্রী। সরকারি নীতিমালায় জলাশয় ভরাটের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্থানেই দখল ও ভরাটের চেষ্টা চলছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে দিঘি ও খালগুলো সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে আইনি জটিলতা নিরসন করে দখলকৃত জলাশয় উদ্ধার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, নগরের গুরুত্বপূর্ণ দিঘি ও খালগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হলে তা যেমন নিরাপদ পানির উৎস নিশ্চিত করবে, তেমনি শহরের পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্য বর্ধনেও ভূমিকা রাখবে। মন্ত্রী এসব জলাশয় ঘিরে হাঁটার পথ এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার পরামর্শ দেন যাতে এগুলো একই সাথে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করে বলেন, সেটি কেবল কৃষির জন্য নয় বরং পানি ব্যবস্থাপনার এক দূরদর্শী উদ্যোগ ছিল। বর্তমানে পানিতে আয়রন ও আর্সেনিকের যে সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তার স্থায়ী সমাধান হিসেবে সারফেস ওয়াটার ব্যবহারের বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। জেলা পরিষদের অধীনে থাকা বিপুল সংখ্যক জলাশয়কে পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করে পানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।
সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমসহ বিএনপি ও রেড ক্রিসেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার সিংহের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপমা দাস ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামারুজ্জামান মাসুম। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে পানি সংরক্ষণের এই ইস্যুটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।