ডিমলায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা বলয়, শান্তিপূর্ণ উৎসবের আমেজ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় চলছে সাজসজ্জার রঙিন আয়োজন। ভক্তি, শ্রদ্ধা আর আনন্দের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা উপজেলার ৭৬টি পূজামণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় পূজা-অর্চনা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিরাপদে উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান এবং সঞ্চালনা করেন ইউএনও অফিসের সহকারী মঞ্জুরুল হক খান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফজলে এলাহী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায়, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ওয়াসিম ইসলাম এবং উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক বাবু জ্যোতি রঞ্জন রায় প্রমুখ।

সভায় বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, “দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নয়, এটি এখন সার্বজনীন আনন্দের উৎসব। ডিমলা উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, স্বেচ্ছাসেবক, সিসি ক্যামেরা ও আলোকসজ্জার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই সবাই মিলেমিশে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপন করুন।”

ডিমলা থানার ওসি ফজলে এলাহী জানান, পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে তিন ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে—পূজার প্রস্তুতি, পূজাকালীন সময় ও প্রতিমা বিসর্জন। তিনি বলেন, “এবার ৭০টি মণ্ডপে প্রতিমা বিসর্জন হবে। প্রতিটি মণ্ডপে ৬ জন আনসার ও ৩ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।”

তিনি আরও জানান, পূজার সময় টহল জোরদার করতে পাঁচটি মোবাইল টিম, ফিক্সড পুলিশ টিম, ডিবি পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম এবং সাদা পোশাকে ডিএসবি পুলিশ মাঠে থাকবে। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। চুরি, ছিনতাই বা ইভটিজিং দমন এবং গুজব বা উস্কানি রোধে সোশ্যাল মিডিয়াতেও কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

সভায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নির্ধারিত সময়ে প্রতিমা বিসর্জন এবং বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ওসি ফজলে এলাহী বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই। আমরা চাই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের দুর্গাপূজা হোক শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর।”

তিনি পূজারীদের উদ্দেশে আরও বলেন, যেকোনো প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে বা পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে পারবেন।