সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসকের অপসারণ দাবিতে ছাত্রজনতার মানববন্ধন

সুনামগঞ্জে দুর্নীতির অভিযোগে জেলা প্রশাসক ড. ইলিয়াস মিয়া ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে অপসারণের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।জুলাই রেভ্যুলুশনারি এলায়েন্সের জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও অতি গুরুতর আহত জুলাইযোদ্ধা মোঃ জহুর আলী’র সভাপতিত্বে এবং জুলাই যোদ্ধা মোঃ আফতাব উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তৈয়্যিবুর রহমান চৌধুরী, জেলা বিএনপি নেতা আব্দুল করিম পাটান, জেলা লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আহ্বায়ক শেখ এমদাদুল হক, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মোঃ রিদওয়ানুল হক নিহাল, জেলা ওয়ারিওর্স অব জুলাই এর যুগ্ম আহবায়ক রেদোয়ান আহমেদ, জামাত নেতা মোঃ নাসির উদ্দিন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বী মারুফ, আহত জুলাই যোদ্ধা শাহীন মিয়া, জুলাই যোদ্ধা মোঃ সালমান আহমদ, জুলাই যোদ্ধা আরিফ উদ্দিন, জুলাই যোদ্ধা রায়হান আহমদ ঋত্বিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ লোকজন।বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসক ও এডিএম রেজাউল করিম উচ্চ আদালতে বিচারাধীন ৮৯/২০২৫ নং আদালত অবমাননা মামলার আসামী। তাঁরা বলেন—উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গুলশান থানার হত্যা মামলার প্রধান এক আসামিকে (সেই মামলা সংক্রান্ত ৮১ নং আসামী) যাদুকাটা বালি মহাল বেআইনীভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে। বক্তারা দাবি করেন, যদি টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হতো তাতে সরকার বড় রাজস্ব আয় করতে পারত।এছাড়া রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ভারতের চোরাই গরু পাচারে সহায়তার অভিযোগও ওঠে; এনবিআরের কাছে কাস্টমস তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন অংশীজনেরা।

মানববন্ধনে আরও বলা হয়, জেলা প্রশাসক ও তার অনুগতরা স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক পুনর্বাসন, পলাতক ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে সরকারি অফিসে সভা-আলোচনা করে নিষিদ্ধ বা বিতর্কিত দল-পন্থাকে সহায়তা করছে; এবং জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালানো হচ্ছে।বক্তারা এক সপ্তাহের মধ্যে ওই দুই কর্মকর্তাকে সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার না করলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করার আলটিমেটাম দেন।সভাপতির বক্তব্যে আহত জুলাই যোদ্ধা মোঃ জহুর আলী কেঁদে বলেন, তাঁর উপর হামলার প্রধান ওসি খালেদকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি এবং প্রশাসন-থানার নীরবতায় তারা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না।অন্য বক্তারা জেলা প্রশাসকের শাসনপ্রক্রিয়া ও পুলিশের সহায়তায় চলমান অনিয়ম ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।আন্দোলনকারীরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসের কাছে ইতিবাচক হস্তক্ষেপ করে দুর্নীতিবাজ ও নির্যাতনকারীদের অপসারণের অনুরোধ জানিয়েছেন। মানববন্ধন শেষে আগামী কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ঘোষণাও করা হয়।