ওভারহেড ট্যাংকের কারণে ভুগর্ভস্থ পানির স্তর নামায় জগন্নাথপুরে পানির সংকট

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদর ও পৌর শহরসহ আটটি ইউনিয়নে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে অপরিকল্পিতভাবে ওভারহেড ট্যাংক স্থাপন এবং ভূগর্ভস্থ পানির ব্যাপক অপচয়ের কারণে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, অগভীর নলকূপগুলো থেকে আর পানি উঠছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।

২৬শে নভেম্বর (বুধবার) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জগন্নাথপুরের গ্রামগুলোর অধিকাংশ অগভীর নলকূপ (চাপ টিউবওয়েল) কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। পূর্বে অল্প পরিশ্রমে পানি তোলা গেলেও বর্তমানে সেগুলোতে সামান্য পানিও পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের এখন ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট গভীর নলকূপ থেকে কষ্ট করে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা কেবল পরিশ্রমসাধ্যই নয়, পানির অপচয়ও বাড়াচ্ছে। এমনকি গভীর নলকূপগুলোতেও পানি দিয়ে পাম্প করে তবেই পানি তুলতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানিয়েছে, এলাকায় একদম পানি পাওয়া যাচ্ছে না এবং পানির জন্য হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক ডিপ টিউবওয়েল বা ওভারহেড ট্যাংক থাকার কারণে অগভীর নলকূপগুলোতে চাপ কমে গেছে। ব্যবহারের পানি ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকটে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে, এবং এই ভোগান্তির কথা অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তুলে ধরেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, মূলত শুষ্ক মৌসুম এলেই প্রতি বছর এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়, যখন পানির গভীরতা কমে যায়। তিনি স্বীকার করেন, আগের স্থাপিত হ্যান্ডপাম্প যুক্ত গভীর নলকূপগুলোতেও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এখন আর পর্যাপ্ত পানি উঠছে না। তিনি আরও বলেন, সরকার সাবমারসিবল পাম্প সরবরাহ করছে, তবে তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য; যার জন্য ব্যাপক পরিমাণের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আশ্বাস দেন যে, আগের পাম্পগুলোকে কনভার্ট করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং আশা করা যায় আগামী দিনে এই সমস্যার সমাধান হবে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরও নিচে নামার আগে এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।