সাংবাদিক পরিবারকে হত্যার হুমকিতে থানায় জিডি

দিরাই প্রতিনিধি ঃ

দৈনিক সিলেট বাণী পত্রিকার দিরাই উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ শামসুল আলমকে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত আক্রমণ ও তৎপরবর্তী তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়ায় সুনামগঞ্জের দিরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি-২৮৬) করা হয়েছে। ৭ ডিসেম্বর রোববার রাতে এ অভিযোগ দায়ের করেন উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের আমিরপুরের (ধল) বাসিন্দা সাংবাদিক মোঃ শামসুল আলম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ নভেম্বর তিনি ও তার পরিচিত ২ জনকে নিয়ে ভাড়া নেয়ার জন্য একটি বাসার খোঁজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে দিরাই পৌরসভার রোডের হাতিয়ার বাসায় গিয়ে রুম খুঁজেন। পরে তিনি বাজারের লঞ্চঘাটস্থ রুচিতা হোটেলে আসলে একই গ্রামের মৃত মোঃ ইলিয়াছ মিয়ার ছেলে মোঃ নূরে আলম তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই বলে অতর্কিত আক্রমণ করে-তুই কেনো আমার বাসায় গিয়েছিলে বলেই হাতের মধ্যে কামড় দিয়ে গুরুতর আহত করে। এরপর তিনি তার থেকে বাঁচার জন্য প্রাণপন চেষ্টা করেন। সাথে সাথে হোটেলের ও আশপাশের লোকজন তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। আহতাবস্থায় তিনি দিরাই হাসপাতালে ভর্তি হন।
অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ করেন, গত ৫ বছর ধরে সে দিরাইয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে ধল গ্রামের সোহাদা নামের একটি মেয়ের সাথে বিবাহ বহির্ভূতভাবে বসবাস করছে। বিষয়টি বাসার মালিক জানতে পারলে নূরে আলমকে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে সে দিরাই পৌরসভা রোডের হাতিয়ার বাসায় বসবাস করছে। যা সামাজিক ও ধর্মীয় দৃৃষ্টিকোণ থেকে খারাপ বলে প্রতীয়মান হয়।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, মোঃ নূরে আলম আমাদের পৈত্তিক চারা-বোরো সব জমি জোর-জবর দখল করে আছে। তার পালিত একদল লাঠিয়াল ও গুণ্ডা বাহিনী নিয়ে এগুলো পরিচালনা করে। মা, আমি ও আমার ভাই-বোনদেরকে অবগত না করেই সে তার একা অবৈধ ক্ষমতা দেখিয়ে প্রায় ১২ লক্ষ টাকায় জমিগুলো বন্ধক দিয়ে একা ভোগ-দখল করছে। এ সবের বিষয়ে বাধা দিতে গেলে সে আমি ও আমার পরিবারের সকল সদস্যকে যে কোনো সময় হত্যা করার হুমকি দেয়। এ নিয়ে গত ২ মে দিরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরীও (জিডি নং-৯৭) দায়ের করি। কিন্তু দীর্ঘ ৭ মাসেও এর কোনো তদন্ত কার্যক্রম না হওয়াতে বিবাদী বেপরোয়া আচরণ করতে থাকে। যদি আগের জিডির কোনো তদন্ত বা কার্যক্রম থাকতো, তবে পুনরায় আমার উপর হামলা হতো না। সে এতোটাই বেপোরয়া যে, যে কোনো সময় আমি ও আমার পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতেও দ্বিধাবোধ করবে না বলেও উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে আমার বৃদ্ধ মা কিছু বলতে চাইলে তার সাথে নূরে আলম অত্যন্ত খারাপ আচরণ করে।
এ ব্যাপারে মোঃ শামসুল আলম বলেন, আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। নিরুপায় হয়ে অবশেষে জিডি করতে বাধ্য হলাম। আমার পিতা ২০১৬ সালে মারা যাওয়ার পর থেকেই নূরে আলম নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। আমাদের পৈতৃক সব চারা ও বোরো জমি জোব-জবর দখল করে সে একাই বন্ধক দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করছে। তিনি আরো বলেন, সে দীর্ঘদিন ধরে একটি মেয়েকে নিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করায় এ নিয়ে এলাকার গণ্যমান সবাই অবগত। তার এই অবৈধ সম্পর্কের ব্যাপারে লোকজনের প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি হিমশিম খাচ্ছি। এসব বিষয়ে তাকে বারণ করতে চাইলে সে আমাকে ও আমার পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যার হুমকি দেয়। বিগত ১ বছর পূর্ব থেকে জোরপূর্বক আমিরপুর জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লী সেজে গ্রামের লোকজনের মধ্যে বিভক্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এ নিয়ে দিরাই থানায় তার বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে।
দিরাই থানার চার্জ অফিসার নিউটন মৃধা জানান, ইতিমধ্যে তদন্ত কর্মকতা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।