স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রুম নিলে কাগজপত্র যাচাই বাধ্যতামূলক: সিলেটের হোটেল মালিকদের কড়া বার্তা পুলিশ কমিশনারের

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম, সিলেটের আবাসিক হোটেলগুলোর সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে হোটেল মালিকদের আরও অধিক সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো পুরুষ ও নারী যদি হোটেলে রুম ভাড়া নিতে এসে নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন, তবে হোটেল কর্তৃপক্ষকে কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা উচিত। যদি তাদের দেওয়া পরিচয়ের সাথে নথিপত্রের মিল না পাওয়া যায়, তবে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া অথবা দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে জানানো প্রয়োজন।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ মিলনায়তনে সিয়ানাহ ট্রাস্ট আয়োজিত “পুণ্যভূমি সিলেটের পবিত্রতা রক্ষায় আবাসিক হোটেল মালিকদের ভূমিকা” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যগুলো করেন।

পুলিশ কমিশনার উল্লেখ করেন যে, সিলেট নগরীতে অবৈধ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং জনস্বার্থে নেওয়া অন্যান্য উদ্যোগে নগরবাসীর সহযোগিতা পাওয়া গেছে। তবে একইসঙ্গে তিনি জানান যে, কিছু আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ পাওয়ায় সেগুলোতে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলো সিলগালা করা হয়েছে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সিলেট একটি পুণ্যভূমি হিসেবে পরিচিত, যেখানে বহু অলি-আওলিয়া শায়িত আছেন; তাই সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় শালীনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সতর্ক করে দেন যে, ব্যবসা হালাল হলেও, হোটেলে যদি অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হয়, তবে সেই ব্যবসা হারাম হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

হোটেল বোর্ডারদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে পুলিশ কমিশনার প্রযুক্তিনির্ভর একটি সমাধানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বোর্ডারদের তথ্য পুলিশের ডেটাবেজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা যাবে। যদি কোনো দম্পতি স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রুম নেন, তবে তাদের তথ্য এন্ট্রি দেওয়ার পর ‘জিনিয়া অ্যাপ’ থেকে কনফারমেশন এসএমএস পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে হোটেলগুলোতে অনৈতিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

সভা শেষে তিনি সমাজের প্রতি ধর্মীয় শিক্ষা থেকে একটি বার্তা দেন: সমাজে নৈতিকতা বজায় থাকলে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়; পক্ষান্তরে, বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা বৃদ্ধি পেলে তার নেতিবাচক প্রভাব সমাজে দেখা দেয়।