শ্রেণিকক্ষ থেকে হৃদয়ের ক্যানভাস: শাল্লার বাতিঘর উপেন্দ্র স্যারের চিরবিদায়

মৃনাল কান্তি দাস :

হাওরবেষ্টিত শাল্লা উপজেলার শিক্ষার ইতিহাস যার হাত ধরে সমৃদ্ধ হয়েছিল, সেই আলোর দিশারি শ্রী উপেন্দ্র কুমার দাস আর নেই। গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখ, ৯৩ বছর বয়সে এই মহৎ প্রাণ শিক্ষাবিদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই চিরবিদায় যেন শাল্লার শিক্ষাঙ্গনে একটি যুগের অবসান ঘটালো।

​১৯৩৩ সালে জন্ম নেওয়া উপেন্দ্র কুমার দাস দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর কঠোর শৃঙ্খলা ও স্নেহের চাদরে তৈরি হয়েছে হাজারো কৃতি সন্তান, যারা আজ দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। শহরের আরামদায়ক জীবন বা বড় চাকরির প্রলোভন ত্যাগ করে তিনি বেছে নিয়েছিলেন হাওরের অবহেলিত শিশুদের ভাগ্য বদলের লড়াই।

​১৯৯৭ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে গেলেও শিক্ষার আলো ছড়ানোর মিশন তিনি থামিয়ে দেননি। শাল্লার শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার ভিত গড়ে দিতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘শাল্লা কিন্ডার গার্টেন’। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি অশিক্ষার বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন।

​তাঁর প্রয়াণে শাল্লার সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয় স্যারের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে প্রাক্তনেরা বলেন, “স্যারের শাসনে যেমন ভয় ছিল, তেমনি লুকিয়ে ছিল বাবার মতো গভীর মমতা। তিনি আমাদের শুধু অক্ষরজ্ঞান দেননি, মানুষ হতে শিখিয়েছেন।” তিনি চলে গেলেও তাঁর আদর্শ ও হাজারো আলোকিত শিক্ষার্থীর মাঝে তিনি আজীবন বেঁচে থাকবেন।

লেখক : সাংবাদিক, সিলেট