জাদুকাটায় বালু উত্তোলনকালে স্কুলছাত্রের মৃত্যু: হত্যার অভিযোগে ৬ জনের নামে মামলা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে জাদুকাটা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে খনিজ বালু উত্তোলন করতে গিয়ে বালুচাপায় শাহ আলম নামের এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় অপরাধজনক নরহত্যার অভিযোগ এনে ছয়জনের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা ও নিহতের পিতা সিরাজ আলী বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মামলায় লাউড়েরগড় ঢালার পাড় এলাকার মৃত আলী নূরের ছেলে বিল্লাল হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং বাকি পাঁচজনকে রাখা হয়েছে অজ্ঞাতনামা হিসেবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজমুল ইসলাম জানান যে অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুল বন্ধ থাকায় গত মঙ্গলবার ভোরে বিশ্বম্ভরপুরের মিয়ারচর গ্রাম থেকে দশম শ্রেণির ছাত্র শাহ আলম আরও অনেকের সাথে জাদুকাটা নদীর পূর্ব তীরে বালু উত্তোলনের কাজে গিয়েছিল। ভোররাত থেকেই লাউড়েরগড় ঢালার পাড় এলাকায় শতাধিক শ্রমিক ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে আকস্মিক বালুধসে শাহ আলম ট্রলারের ওপর চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।

ঘটনার পর নিহতের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে তাহিরপুর থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। মামলার এজাহারে নিহতের পিতা অভিযোগ করেছেন যে বিল্লাল হোসেন ও তার সহযোগীরা সরকারি খাস জমি থেকে বেপরোয়া ও তাচ্ছিল্যপূর্ণভাবে বালু উত্তোলন করতে গিয়ে তার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাদুকাটা নদীর পূর্ব তীরের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভেকু ও ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে পাড় কেটে বালু বিক্রি করে আসছে।

পরিবেশ ও সমাজকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে গত ২৯ মার্চ একই এলাকায় বালু উত্তোলনের সময় লিয়াকত নামে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনায় পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বালু খেকো সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে স্কুলছাত্র শাহ আলমকে প্রাণ দিতে হলো। বর্তমানে এলাকায় এ নিয়ে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।