সিলেট অঞ্চলে হঠাৎ করেই তীব্র লোডশেডিং শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাহিদার তুলনায় গড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই প্রায় এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রচণ্ড গরম, যার ফলে বাসাবাড়ি, অফিস এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বুধবার রাত থেকেই বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক বিভ্রাট শুরু হয় এবং বৃহস্পতিবার দিনভর তা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। অনেক এলাকায় সারারাত বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হয়েছে বাসিন্দাদের।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটে বর্তমানে ৪৭৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে, যার বড় একটি অংশ পল্লী বিদ্যুতের। পিডিবির ১৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে ১৩০ মেগাওয়াট, আর পল্লী বিদ্যুতের ৩০৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৬৭ মেগাওয়াট। এর ফলে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের সংকট এবং সিলেটের স্থানীয় তিনটি উৎপাদন কেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকায় এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না আসায় সরবরাহ ঠিক রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিদ্যুতের এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আগে থেকেই রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশনা থাকায় তাদের ব্যবসায়িক সময় সীমিত হয়ে আছে, তার ওপর দিনভর বিদ্যুৎ না থাকায় বাজারে ক্রেতার সমাগম কমে গেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। সাধারণ বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আধঘণ্টা বা এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশুদের নিয়ে ঘরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জকিগঞ্জসহ প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে অবস্থা আরও ভয়াবহ, যেখানে কোনো কোনো এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত এই সংকট থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না তারা।