খালিয়াজুরীতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সংখ্যালঘুর ধান লুটের অভিযোগ

নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে আদালতের স্থিতাবস্থা ও রিসিভার নিয়োগের নির্দেশ অমান্য করে এক সংখ্যালঘু পরিবারের জমির ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (১ মে) রাতের আঁধারে উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জীবন দেবনাথের দাবি, গ্রামের কামাল মিয়া ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বলরামপুর গ্রামের মৃত জয়চন্দ্র দেবনাথের ছেলে জীবন দেবনাথ প্রায় ৬০ বছর ধরে তাদের পৈতৃক ৬৫ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ওই জমির ওপর নজর পড়ে একই গ্রামের মৃত হাসেম মিয়ার ছেলে কামাল মিয়া ও মৃত অহেদ মিয়ার ছেলে সাইফুল মিয়াসহ কয়েকজনের। জীবন দেবনাথের অভিযোগ, এই চক্রটি জমি দখলের উদ্দেশ্যে তাকে একাধিকবার শারীরিক নির্যাতন করেছে। এমনকি গত ৫ই আগস্টের পর একই গ্রামের টিটু দেবনাথের বাড়িঘর ভাঙচুরের পেছনেও এই কামাল বাহিনীর হাত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

 জমি নিয়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে জীবন দেবনাথ নেত্রকোণা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দ্বারস্থ হন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান গত ১৫ই এপ্রিল ওই জমিতে রিসিভার নিয়োগের আদেশ দেন। খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব পালনের এবং থানা পুলিশকে আইন-শৃংখলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। রিসিভার হিসেবে দায়িত্বরত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দেলুয়ার হোসেন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তিনি সরাসরি ঘটনাস্থলে যেতে না পারলেও বিবাদী পক্ষকে মৌখিকভাবে ধান কাটতে নিষেধ করেছিলেন। তবে সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেই রাতের আঁধারে ধান কেটে নেওয়া হয়েছে।

 ভুক্তভোগী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া জানান, আদালতের রিসিভার নিয়োগের পর ধান কেটে নেওয়া সম্পূর্ণ আইন পরিপন্থী এবং আদালত অবমাননার শামিল। এদিকে অভিযুক্ত কামাল ও সাইফুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। খালিয়াজুরী থানার ওসি মোঃ নাসিরউদ্দিন জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে রিসিভার যদি নিরাপত্তা সহযোগিতা চায় তবে পুলিশ তা প্রদান করবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কামালের অত্যাচারে তারা অতিষ্ঠ, কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তারা অবিলম্বে এই ভূমিদস্যু চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।