দিরাই পৌর শহরে জনসাধারণের চলাচলের পথ বা ফুটপাত দখল করে কিছু অবৈধ স্থাপনা তৈরি করা হয়েছিল। শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন সেই অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের জন্য একটি অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানটি বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় এবং দিরাই পৌর শহরের মধ্যবাজারের ব্রিজ এলাকা থেকে থানা পয়েন্ট হয়ে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত চলে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সনজীব সরকারের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় ফুটপাতের ওপরে থাকা অবৈধ দোকান, অস্থায়ী টং ঘর, ভাসমান দোকান এবং অন্যান্য সকল স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। এই উচ্ছেদ অভিযানে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী, দিরাই পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং দিরাই থানা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহায়তা প্রদান করে।
প্রশাসন জানিয়েছে যে, এর আগে গত ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যবসায়ীদের মাইকিং করে স্বেচ্ছায় ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা না হওয়ায় শনিবার এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলো।
এ প্রসঙ্গে ইউএনও সনজীব সরকার জানান, ফুটপাত শুধু সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে অনেক সমস্যা হচ্ছিল। সাধারণ মানুষের কষ্ট দূর করা এবং শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত চলবে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, কেউ যদি আবার ফুটপাত দখল করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল থাকার কারণে পৌর শহরের এই প্রধান রাস্তায় সব সময় যানজট লেগে থাকত। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে পথচলা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠত। তারা আশা করছেন, প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে এখন বাজার এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ফিরে আসবে এবং মানুষের কষ্ট কমবে। এই জনস্বার্থমূলক অভিযানের জন্য স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করে প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং তারা নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।