শেরপুরে ইভটিজারকে মারধরের ঘটনায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, আহত ১০

প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৫

শেরপুরে ইভটিজারকে মারধরের ঘটনায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, আহত ১০

শেরপুরে ইভটিজার যুবককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে। এসময় সংঘর্ষে জরানো গ্রামবাসীরা আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের কান্দাশেরীরচর ও কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

পরে শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরেও সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের কান্দাশেরীরচর ও কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে।
সংঘর্ষে দুপক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয় ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের কান্দাশেরীরচর এলাকায় শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সূর্যমুখীর বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে যানজটে আটকে পড়া পিকনিক এক নারীকে ইভটিজিং করে কৃষ্ণপুর এক যুবক। পরে কান্দাশেরীরচর গ্রামের কয়েকজন যুবক মিলে ওই যুবককে মারধর করে। এ খবর ছরিয়ে পরলে কৃষ্ণপুর গ্রামের লোকজন কান্দাশেরীরচর গ্রামে হামলা করে। এতে শুরু হয় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

এতে কান্দাশেরীরচরের হোসেন আলীর ছেলে ফারুক মিয়া (৩০), লাল মিয়ার ছেলে মজনু মিয়া (২৫), ইয়াসিন আলীর ছেলে আব্দুল আলিম (২৬)সহ অন্তত ৫ জন আহত হয়। এসময় কুসুমহাটি বাজারের রাস্তায় আগুন দিয়ে অবরোধ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও একটি মোবাইলের দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শনিবার সকাল থেকে দু’পক্ষ কুসুমহাটি বাজারে শেরপুর-জামালপুর সড়কের দুইপাশে অবস্থান নেওয়া শুরু করলে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুপুরের দিকে দুপক্ষের মধ্যে কয়েকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে দুপক্ষের অন্তত আরো ৫ জন আহত হয়। এসময় আবারও শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন নাহিয়ান ইসলাম বলেন সেনাবাহিনীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। একইসাথে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুবায়দুল আলম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার সাথে জরিত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগপ্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এব্যাপারে শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে। কোনক্রমেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে দেয়া হবে না।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল